জীবনানন্দ দাশের কাব্যে চিত্ররূপময়তা

জীবনানন্দ দাশের কাব্যে চিত্ররূপময়তা

জীবনানন্দ দাশ আধুনিক বাংলা কবিতার এমন এক রূপকার, যিনি শব্দের তুলিতে ছবি এঁকেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতা পড়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, জীবনানন্দের কবিতা অত্যন্ত ‘চিত্ররূপময়’। অর্থাৎ কবিতা পড়তে পড়তে পাঠকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একের পর এক চমৎকার ও জীবন্ত চিত্রকল্প।

জীবনানন্দের চিত্ররূপময়তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো রূপসী বাংলার সাধারণ রূপকে এক অসাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা। "বাংলা মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর"— এই গভীর ঘোষণার মধ্যে নিহিত আছে বাংলার মেঠো ও নির্জন প্রকৃতির রূপ।

"হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে\nতুমি আর কেঁদো নাকো উড়ে উড়ে ধানসিঁড়ি নদীটির পাশে।"

তিনি হিজল, বট, অশ্বত্থ, শঙ্খচিল, বুনো হাঁস আর ঘাসের গন্ধকে কবিতায় এমনভাবে বিন্যস্ত করেছেন যে, তা এক অপার্থিব রূপ ধারণ করে। ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ বা ‘বনলতা সেন’ কাব্যে একাকীত্ব আর কুয়াশায় ঢাকা কার্তিকের বিকেলের ছবি অদ্ভুত এক বিষাদের রাগিণী বাজায়।

তাঁর চিত্রকল্প প্রকৃতি আর মানুষের এক রহস্যময় চিত্রশালা, যেখানে প্রতিটি শব্দ একেকটি জীবন্ত বর্ণচ্ছটা।

মন্তব্যসমূহ (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!

আপনার মন্তব্য লিখুন